ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের দেশ স্পেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে পাস হয়েছে ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আইন। সংসদে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৭৮টি, বিপক্ষে ১৬৯টি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর থাকা নিষেধাজ্ঞাকে এবার আইনি রূপ দিল স্পেন সরকার।দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেসামরিক জনগণের ওপর অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে এই আইন প্রণয়নকে “নৈতিক দায়িত্ব” হিসেবে দেখছে সানচেজের সরকার।নতুন আইনে শুধু অস্ত্র সরবরাহ নয়, ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী জাহাজ ও বিমানের চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে স্পেনের বন্দর, আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে। অর্থাৎ, ইসরায়েলের জন্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে স্পেনের অবকাঠামো ব্যবহার আর সম্ভব হবে না।নিষেধাজ্ঞার আওতায় স্পেন কোনো সামরিক সরঞ্জাম, দ্বৈত-ব্যবহারের প্রযুক্তি বা পণ্য ইসরায়েলে রপ্তানি করবে না। একইভাবে ইসরায়েল থেকেও সামরিক বা প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত কোনো পণ্য আমদানি করা যাবে না। এমনকি, সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন বিমান জ্বালানির অনুরোধও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করবে দেশটি।এর পাশাপাশি, পশ্চিম তীরের দখলকৃত অঞ্চলে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্য স্পেনে আমদানি বা প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনে মানবিক সংকট কমাতে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। ইতিমধ্যে আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়াম সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অনুরূপ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।স্পেন সরকারের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েল কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “এটি ন্যায় ও মানবতার পক্ষে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
