অবশেষে গাজায় বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে চুক্তি অনুমোদনের পর শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তি অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে গাজার নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সরে যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে উপত্যকার প্রায় ৫৩ শতাংশ অঞ্চল ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পরবর্তী দুই ধাপে ধীরে ধীরে পুরো গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহার করা হবে।চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত অনুযায়ী, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হামাস ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দেবে। প্রথম পর্যায়ে মুক্তি পাবে ২০ জন জীবিত বন্দি। হামাস মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে যে, কিছু নিহত বন্দির মরদেহের অবস্থান অজানা থাকায় মরদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব হতে পারে।বিনিময়ে ইসরায়েল দুই হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে এবং গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেবে। এতে খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে জানান, ইসরায়েল ও হামাস উভয়পক্ষ ‘শান্তি পরিকল্পনা’র প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে সম্মতি দিয়েছে। তিনি বলেন, “এটি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”আন্তর্জাতিক মহল এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাস্তবায়নের পর্যায়ে এই চুক্তি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ উভয় পক্ষের মধ্যকার আস্থার সংকট এখনো গভীর।সূত্র : যমুনা টিভি
You can share this post!
