৩৪ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচন শুরু, ভোটের উৎসবে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
তিন যুগেরও বেশি সময় পর অবশেষে শুরু হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনে একযোগে চলছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ২৭ হাজার শিক্ষার্থী তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা শিক্ষাঙ্গনে নতুন উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করেছে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এ নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ ৩৪ বছর পর আবারো ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২৭,৫১৭ জন—এর মধ্যে ১৬,০৮৪ জন ছাত্র এবং ১১,৪৩৪ জন ছাত্রী। চাকসু ও হল সংসদ মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯০৮ জন প্রার্থী। চাকসুতে ২৬টি পদে ৪১৫ জন এবং হল সংসদে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রার্থিতা করছেন।চাকসুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে ২৪ জন, জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদে ২২ জন, এবং সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি (এজিএস) পদে ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে ৪৮ জন নারী প্রার্থী ও ৩৬৬ জন পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন। ইতোমধ্যে ২৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদের ৯টি হল ও একটি হোস্টেল থেকে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হল থেকে ১২৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক। প্রশাসন আশা করছে, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।
সূত্র : যমুনা টিভি
