জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় শোকাহত। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একদিনের শোক ঘোষণা করেছে এবং আগামী ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সভায় সিদ্ধান্ত হয়, মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) শোক দিবস পালন করা হবে। দিনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। যদিও ২১ ও ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের নিয়মিত ক্লাস চলবে, তবে চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়। উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে আমরা হারিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ মর্যাদায় শোক পালন করা হবে।”উল্লেখ্য, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার একটি বাসার সিঁড়ি থেকে জুবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি টিউশনি করতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।নিহত জুবায়েদ হোসেন ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জবি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। সহপাঠী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।এই হত্যাকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুবায়েদের স্মৃতিচারণ করছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন।
সূত্র : আমার দেশ
