রাজধানীর কালাবাগান এলাকার এক হৃদয়বিদারক ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী নাজরুল ইসলাম (৫৯) গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১২ অক্টোবর মধ্যরাতে নিজের স্ত্রী তাসলিমা আখতারকে (৪২) কুপিয়ে হত্যা করে তিনি লাশটি ঘরের ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর নাজরুল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে পালিয়ে যান।রামনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানান, নাজরুল হত্যার পর নিজের পোশাক ধুয়ে ফেলেন, রক্তমাখা গদিটি উল্টে দেন এবং লাশটি গামছা, চাদর ও ওড়না দিয়ে মুড়ে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। পরদিন সকালে তিনি তার তিন মেয়েকে (বয়স ১৯, ১১ ও ৫ বছর) মিথ্যা বলে জানান যে তাদের মা অন্য পুরুষের সঙ্গে চলে গেছে। এরপর তিনি মেয়েদের আত্মীয়দের বাসায় রেখে নিজে পালিয়ে যান।তবে সন্দেহের সূত্র ধরে মেয়েরা পরে ফ্ল্যাটে রক্তের দাগ দেখে তাদের মামার সঙ্গে কালাবাগান থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ফ্রিজ থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য জীবনে অবিশ্বাস, সন্দেহ ও আর্থিক দ্বন্দ্ব নাজরুলের মধ্যে তীব্র মানসিক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাতে পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার আলমারিতে লুকিয়ে রাখা হত্যার অস্ত্র — রক্তমাখা দা — উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, নাজরুল দীর্ঘদিন ধরে তাসলিমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় সন্দেহ ও ক্রোধ থেকেই তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটান।তাসলিমার মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র : টিবিএস নিউজ
