বাংলাদেশ পুনরায় ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাম্প্রতিক রায়ের পর এই নতুন কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়। পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন রোববার সাংবাদিকদের জানান যে, ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিতে নতুন নোট পাঠানো হয়েছে, যদিও বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফর শেষে বাংলাদেশ দ্রুতই নোট ভার্বালে পাঠায়। তিনি কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের সপ্তম সভায় অংশ নিতে ভারতের এনএসএ অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে দিল্লিতে ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত বছরের জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পরপরই বাংলাদেশ ভারতের কাছে দ্রুত দুইজনকে হস্তান্তরের আহ্বান জানায়।
ঢাকা বলছে, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত আইনগতভাবে তাদের ফেরত দিতে বাধ্য। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে উল্লেখ করে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্য দেশে আশ্রয় দেওয়া বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ হবে না এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়টি লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ–এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনীরুজ্জামান বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় ভারত প্রায় বাধ্যতামূলকভাবে তাকে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
