Falcon Feed

কসমেটিক শিল্পের চাহিদায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে গভীর সমুদ্রের বিরল ‘গাল্পার হাঙর’

কসমেটিক শিল্পের চাহিদায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে গভীর সমুদ্রের বিরল ‘গাল্পার হাঙর’

গভীর সমুদ্রের অন্যতম রহস্যময় ও প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ‘গাল্পার হাঙর’ আজ বিলুপ্তির পথে। পৃথিবীর ২০০ থেকে ১,৫০০ মিটার গভীরতার অন্ধকার পানিতে বসবাসকারী এই হাঙরকে এখন সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে কসমেটিক শিল্প। কারণ, এর লিভার তেলে থাকা স্ক্যুয়ালিন উপাদান মেকআপ, সানস্ক্রিন, আফটারশেভসহ অসংখ্য প্রসাধনী পণ্যে ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয়, হেমোরয়েড চিকিৎসা ও নিকোটিন প্যাচেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই তেল।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাল্পার হাঙরের লিভার তেলে স্ক্যুয়ালিনের ঘনত্ব ৭০%-এর বেশি—যা অন্য কোনো হাঙরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এই অতিরিক্ত চাহিদাই তাদের ওপর শিকার চাপ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। অনেক অঞ্চলে এই বিরল প্রজাতির জনসংখ্যা ইতোমধ্যেই ৮০%-এরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা উদ্বেগজনক হারে বিলুপ্তির দিকে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হাঙর প্রজাতির ধীরে প্রজননক্ষমতা এবং দেরিতে পরিপক্ক হওয়ার কারণে তারা প্রাকৃতিকভাবেই শিকারদাবের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার-এর সিনিয়র পরিচালক ম্যাট কলিস জানান, একবার সংখ্যা কমে গেলে তাদের প্রাকৃতিকভাবে ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে বাণিজ্যিক শিকার চলমান থাকলে পুনরুদ্ধার প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

যদিও কিছু কসমেটিক কোম্পানি এখন উদ্ভিদ-ভিত্তিক স্ক্যুয়ালিন ব্যবহার শুরু করেছে, তবুও বিশ্ববাজারে হাঙর-নির্ভর স্ক্যুয়ালিনের ব্যবহার এখনও উল্লেখযোগ্য। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং গভীর সমুদ্রের মাছ ধরার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপই গাল্পার হাঙর রক্ষার কার্যকর উপায়।

আন্তর্জাতিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে এই প্রজাতি আবারও ফিরে আসতে পারে। কিন্তু তাতে লাগবে সচেতনতা, বিকল্প উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি, এবং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। শিল্পের চাপ যেমন তাদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলছে, তেমনি মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের সচেতন উদ্যোগই পারে এই বিরল গাল্পার হাঙরের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।

সূত্র : যমুনা টিভি

Related Articles