Falcon Feed

কর্মস্থলে উপস্থিতির প্রত্যয়ন ছাড়া প্রাথমিকে বেতন–ভাতা বন্ধ: কঠোর নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের

কর্মস্থলে উপস্থিতির প্রত্যয়ন ছাড়া প্রাথমিকে বেতন–ভাতা বন্ধ: কঠোর নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন সব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন–ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, ভবিষ্যতে বেতন–ভাতা পাওয়ার জন্য কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতির যথাযথ প্রত্যয়ন আবশ্যক হবে। কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে কোনোভাবেই কেউ বেতন গ্রহণ করতে পারবেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিজ কর্মস্থলের পরিবর্তে সংযুক্তিকৃত (অন্যত্র সংযুক্ত) কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না। আবার কেউ কেউ ছুটির অনুমোদন ব্যতীত আইবাস (iBAS++) সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন–ভাতা তুলে নিচ্ছেন। এ ধরনের অনিয়ম সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, সংযুক্তিকৃত কর্মস্থলে উপস্থিত কর্মচারীদের সঠিকভাবে প্রত্যয়ন দিতে হবে। কোনো ব্যক্তি অনুমোদন ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে এবং তারপরও যদি তার বেতন উত্তোলন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয়ন–ব্যয় বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাকেই দায় বহন করতে হবে। অর্থাৎ, উপস্থিতির তথ্য যাচাই–বাছাই সঠিকভাবে সম্পন্ন না করার দায় সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর বর্তাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এই নির্দেশনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকার পরিচালিত স্কুলগুলোতে শিক্ষক–কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে পাঠদান মানোন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং সংযুক্তিকরণ স্থান নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। নতুন নির্দেশনা এসব অনিয়ম প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া iBAS++–এ বেতন প্রদানের অটোমেশন থাকলেও সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়া বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই বেতন বিতরণে উপস্থিতির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আর্থিক জবাবদিহিতার স্বার্থেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : আমার দেশ

Related Articles