Falcon Feed

দুনিয়া-আখেরাতেও থাকবে দাঁড়িপাল্লা’—ক্ষমতা আল্লাহর অধীনই থাকবে: ব্যারিস্টার শাহরিয়ার

দুনিয়া-আখেরাতেও থাকবে দাঁড়িপাল্লা’—ক্ষমতা আল্লাহর অধীনই থাকবে: ব্যারিস্টার শাহরিয়ার

সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত টক-শো ব্যক্তিত্ব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ক্ষমতার মালিক কোনো গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক শক্তি নয়; একমাত্র আল্লাহই ক্ষমতা দান করেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) হলরুমে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিভাগের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতীকের লড়াইয়ে ধানের শীষ, নৌকা বা লাঙ্গল থাকবে না; বরং ‘দাঁড়িপাল্লা’ বা ‘মিজান’—একটি ইসলামী প্রতীক—দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই প্রাসঙ্গিক থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা এমন প্রতীক নিয়ে কাজ করি, যা কিয়ামতের দিনও কার্যকর থাকবে। আল্লাহ চাইলে জামায়াতই ক্ষমতায় যাবে; কেউ সেটা আটকাতে পারবে না।”

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমীসহ আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় শাহরিয়ার আরও বলেন, প্রথম আলোর সাম্প্রতিক জরিপ রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন নয়, কারণ ক্ষমতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত মানুষের নয়—আল্লাহর। জরিপে জামায়াতের জনপ্রিয়তা কম দেখানো হলেও তা বাস্তবে প্রভাব ফেলে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টক-শোতে তার উচ্চ স্বরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ বছর ধরে মিথ্যা শুনতে শুনতে কানে ধাপা পড়ে গেছে। তাই জোরে বলতে হয়, যেন কথা কান ভেদ করে মানুষের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে।” তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে আওয়ামী লীগ বা মুসলিম লীগের ভোট নেই; সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল্লাহ।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৫ বছর আন্দোলনেও কিছু হয়নি, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছে হলে মুহূর্তেই পরিবর্তন আসে—২০২৪ সালের ঘটনা তারই প্রমাণ।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান—“বিকল্প থাকলে আপনারা তৈরি করুন; না থাকলে ইসলাম কায়েমে জামায়াতকে সমর্থন দিন।”

শিবিরকে ‘বট বাহিনী’ বলে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও মিডিয়া সেটা তুলে ধরে না। ইসলামবিরোধী মনোভাবের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “ইসলাম হলে দুর্নীতি করা যাবে না, অন্যের হক নষ্ট করা যাবে না—এ কারণেই অনেকে অ্যালার্জিক হয়ে যান।”

সবশেষে তিনি দাবি করেন, ১৯৭২-৭৫ সালে ইসলাম না থাকায় নারীদের স্বাধীন চলাফেরা নষ্ট হয়েছিল; ইসলাম প্রতিষ্ঠা হলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তার মতে, এই ইসলাম প্রতিষ্ঠাই কিছু বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে ভারত, চায় না।

সূত্র : বার্তা বাজার

Related Articles