Falcon Feed

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি: ‘ঈশ্বরের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন জোরদার

ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি: ‘ঈশ্বরের শত্রু’ আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন জোরদার

ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি বিক্ষোভে অংশ নেন, তাকে “ঈশ্বরের শত্রু” হিসেবে বিবেচনা করা হবে—যে অভিযোগের শাস্তি ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশজুড়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে বিক্ষোভ চলছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল স্পষ্টভাবে বলেছেন, শুধু বিক্ষোভকারীরাই নয়, যারা তাদের সহায়তা বা সমর্থন করবে, তারাও একই অভিযোগের মুখে পড়তে পারে। তিনি প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় “কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড়” না দেখাতে।

এই অভিযোগটি ‘মোহারেবেহ’ নামে পরিচিত, যার অর্থ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’। এটি ইরানের অন্যতম গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড, দীর্ঘ কারাদণ্ড বা অঙ্গচ্ছেদের মতো কঠোর দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে বিস্ফোরিত করে। পরবর্তীতে এই আন্দোলন ৩১টি প্রদেশজুড়ে বিস্তৃত হয়ে সরাসরি সরকার ও ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট ও টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর অবৈধভাবে গুলি, ধাতব পেলেটযুক্ত শটগান, টিয়ার গ্যাস, জলকামান এবং মারধরের আশ্রয় নিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের “ভাঙচুরকারী” আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করেছেন, সরকার কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না। ফলে ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র : Swarajyamag

Related Articles