Falcon Feed

গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি, গ্রেফতার ১৬৪

গোপালগঞ্জে উত্তেজনা অব্যাহত: কারফিউর মেয়াদ বৃদ্ধি, গ্রেফতার ১৬৪

গোপালগঞ্জ, ১৯ জুলাই, ২০২৫ – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর প্রশাসনের জারি করা কারফিউর সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে। একইসাথে, সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।

কারফিউর আওতায় জনজীবন

বুধবার রাত ৮টা থেকে জারি করা কারফিউ শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়েছিল। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে শহরের রাস্তায় কিছু যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় এবং মানুষ জরুরি প্রয়োজনে তাদের গন্তব্যে যাতায়াত করে। মূল সড়কের পাশের কিছু দোকান ও গলির ভেতরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও বড় মার্কেট এবং বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল।

এই পরিস্থিতিতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শহরের বড় বাজারের ফল বিক্রেতা রতন সাহা আক্ষেপ করে বলেন, “দোকান খুলতে না পারায় আমি মারাত্মক ক্ষতির শিকার। গত তিনদিনে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফল পচে গেছে। শুক্রবার মাত্র তিন ঘণ্টার জন্য দোকান খুলে কতটুকুই বা বিক্রি করা সম্ভব? আমরা চাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।”

সংঘর্ষের সূত্রপাত ও গ্রেফতার অভিযান

গত বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় ৪৫ জন, মুকসুদপুর থানায় ৬৬ জন, কাশিয়ানী থানায় ২৪ জন, টুঙ্গিপাড়া থানায় ১৭ জন এবং কোটালীপাড়া থানায় ১২ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা ও মামলা দায়ের

এদিকে, পুলিশের ওপর হামলা, মারধর এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান শুক্রবার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিউটন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান পিয়ালসহ ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ৪৫০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই সকালে এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচির সময় গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের উলপুরে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় নিষিদ্ধঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা পুলিশ সদস্যদের মারধর করে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই হামলায় পরিদর্শক আহম্মেদ আলী বিশ্বাসসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।

গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Related Articles