গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর অবশেষে শিশুদের শিক্ষায় ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির লক্ষ্য—অঞ্চলের প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার স্কুলপড়ুয়া শিশুকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের শিক্ষাজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে দেওয়া।ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার এক বিবৃতিতে বলেন, “যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা ও শিক্ষাক্ষেত্রে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।” তিনি জানান, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সহিংসতা ও অবরোধের কারণে শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা শিশুদের জন্য এখন অগ্রাধিকারভিত্তিতে পুনরায় স্কুলে ফেরা নিশ্চিত করা হচ্ছে।সংস্থাটি ইতিমধ্যে গাজার বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর সংস্কারকাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার পাশাপাশি থাকবে নিরাপদ পানীয় জল, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, মনোসামাজিক সহায়তা এবং শিশু সুরক্ষার ব্যবস্থা।বেইগবেডার বলেন, “শিক্ষা শুধু বই-পড়ার বিষয় নয়; এটি শিশুদের মানসিক পুনরুদ্ধার, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউনিসেফের এই পদক্ষেপ গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিশুদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়া কেবল মানবিক সহায়তা নয়, বরং এটি গাজাবাসীর জন্য আশার নতুন আলো।এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনিসেফ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা দেশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছে। গাজায় শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে তারা একটি নিরাপদ, টেকসই ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তুলতে চায়—যেখানে যুদ্ধ নয়, শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শক্তির ভিত্তি।
সূত্র : যমুনা টিভি
