Falcon Feed

তেঁতুলিয়ায় আবারো দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

তেঁতুলিয়ায় আবারো দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য, পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আবারও দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ ও রাজসিক সৌন্দর্য। দেশের উত্তরের এই সীমান্ত জেলা প্রতি বছর শীতের শুরুতে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। তবে কয়েকদিন ধরে মেঘলা আবহাওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছিল না এই পৌরাণিক সৌন্দর্যের পর্বতটিকে। হঠাৎ করেই গত দুদিন ধরে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় ভোরের আলোয় আবারও পুরো দিগন্তজুড়ে ফুটে উঠছে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর রূপ। মঙ্গলবার ভোরে করতোয়া সেতু, তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা, শালবাহান, ভজনপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। অনেকে খালি চোখে দেখছেন পর্বতের দৃশ্য, আবার কেউ ক্যামেরায় বন্দী করছেন রঙিন পরিবর্তনের সেই অপূর্ব মুহূর্ত। কাঞ্চনজঙ্ঘা ভোরে কখনো কালচে-বেগুনি, কখনো শুভ্র সাদা রূপ ধারণ করে। দুপুরের সূর্যের আলোয় হয়ে ওঠে সোনালি; আর বিকেলে লাল, বেগুনি ও কমলা আভায় সেজে ওঠে পুরো দিগন্ত—যা দর্শনার্থীদের বিমোহিত করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকরা জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘার এই সৌন্দর্য সরাসরি উপভোগ করা সত্যিই এক সৌভাগ্যের ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মারুফ জাকারিয়া বলেন, “যতবার দেখি, ততবার এর সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে।” রংপুর থেকে আসা সৌমিক জানান, তিন দফায় ঘুরে এবার নিজ চোখে দেখতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে পর্যটকদের অভিযোগ, তেঁতুলিয়ায় আবাসন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়। তারা সরকারি উদ্যোগে পর্যটন মোটেল ও প্রয়োজনীয় সেবা বাড়ানোর দাবি জানান। স্থানীয়রা মনে করেন, এই অঞ্চলে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠলে চা, পাথর, খনিজসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু জানান, প্রথমবারের মতো hotels.gov.bd নামে একটি অনলাইন অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পর্যটকরা আগেই বুকিং করতে পারবেন এবং নির্ভরযোগ্য আবাসনের তথ্য পাবেন। তিনি আরও জানান, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকের চাপ বেড়ে যায়, তাই নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে।

সূত্র : আমার দেশ

Related Articles