একই পরিবারের ওপর নেমে এসেছে পরপর দুটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে কিশোর ছেলে তাহসীন হোসেন (১৫)। আর সেই ক্ষত শুকানোর আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে পদদলিত ও অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, স্বামী নিরব হোসেন (৫৬)। এই দুই ঘটনার পর স্বামীহারা ও পঙ্গু সন্তানের মা তাহেরা বেগম এখন দিশেহারা, বাকরুদ্ধ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে স্বামীর মরদেহ ও পঙ্গু ছেলেকে নিয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামে ফিরেছেন তাহেরা বেগম। ঢাকায় বসবাসরত সুখী হলেও সীমিত আয়ের সংসারটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। নিরব হোসেন ছিলেন বিএনপির একজন সক্রিয় সমর্থক। বুধবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পদদলিত হন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একমাত্র ছেলে তাহসীন হোসেন পরিবারের কাউকে না জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সঙ্গে অংশ নেয়। ৪ আগস্ট ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার এবং দেশ-বিদেশে (থাইল্যান্ড) নেওয়ার পরও চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ হওয়ার আশ্বাস দিতে পারেননি। বর্তমানে সে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় হাঁটাচলা করতে পারে না, স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হুইলচেয়ারে বসে বাবার জানাজায় অংশ নিতে পটুয়াখালীতে আসা তাহসীন প্রশ্ন রাখে—এখন তার দেখভাল করবে কে? সংসার চলবে কীভাবে? মা তাহেরা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সদস্যের পরিবার চালানোর মতো কোনো উপার্জনের ব্যবস্থা নেই। এই পরিবারের দুর্দশা এখন পুরো এলাকাজুড়ে মানবিক বেদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নির্দেশে দলটি এই পরিবারের পাশে দাঁড়াবে এবং চিকিৎসা ও জীবিকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবে।
সূত্র : Bangla Tribune
