২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের করুণ হারের স্মৃতি এখনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। তবে নেইমার সে ম্যাচে ইনজুরির কারণে মাঠে ছিলেন না। কিন্তু এবার সান্তোসের জার্সি গায়ে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে মাঠে থেকে ৬-০ গোলের অপমানজনক হার প্রত্যক্ষ করলেন তিনি নিজেই।ব্রাজিলিয়ান সেরি আ লিগে সোমবার (১৮ আগস্ট) ভাস্কো দা গামা ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় নেইমারের ক্লাব সান্তোসকে। ম্যাচে জোড়া গোল করেন নেইমারের জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ ফিলিপে কোতিনহো। জুন মাসে সান্তোসের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা নেইমার ছিলেন শুরুর একাদশেই। কিন্তু মাঠে এমন নির্মম হার দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ক্লাব স্টাফরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।ম্যাচের শুরুতে ১৮ মিনিটে লুকাস পিটন গোল করে ভাস্কোকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ তে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের রক্ষণভাগ একেবারেই ভেঙে পড়ে। ৫২ মিনিটে ডেভিড, এরপর ৫৪ ও ৬২ মিনিটে কোতিনহোর দুই গোল, ৬০ মিনিটে রায়ান রোচার পেনাল্টি এবং ৬৮ মিনিটে দানিলো নেভেসের গোল ভাস্কোর জয় নিশ্চিত করে। শেষ পর্যন্ত ৬-০ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচ। এই জয়ের ফলে ভাস্কো অবনমন অঞ্চলের বাইরে উঠে এসেছে এবং বর্তমানে সান্তোসের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।ম্যাচ শেষে নেইমার নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি লজ্জিত। আমাদের পারফরম্যান্সে সম্পূর্ণ হতাশ। সমর্থকদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে সেটা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়। এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে লজ্জাজনক মুহূর্ত। কান্না এসেছিল রাগ থেকে, কারণ আমি দলকে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারিনি।”এই বড় পরাজয়ের পর সান্তোস ক্লাব কর্তৃপক্ষ প্রধান কোচ ক্লেবার হাভিয়েরকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে হাভিয়েরকে বিদায় জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানানো হয়। সান্তোসের এই সংকটময় সময়ে সামনে কী সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র : চেনেল ২৪
