বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারত সাময়িকভাবে ডাকযোগে পার্সেল আদানপ্রদান বন্ধ ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কম মূল্যের পার্সেল প্যাকেজের ওপরও কাস্টমস শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেয় ভারতের ডাক বিভাগ। তবে চিঠি, নথি এবং ১০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের উপহার সামগ্রী এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান পাওয়া গেলে দ্রুতই এ পরিষেবা পুনরায় চালু করা হতে পারে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশ কেবল ভারতই নয়, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া ও ডেনমার্কের মতো ইউরোপীয় দেশগুলিও দিয়েছে একই কারণে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেন। ২৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই নীতিতে বলা হয়েছে, যেকোনো মূল্যের পার্সেল পাঠালে তা শুল্কের আওতায় আসবে। কেবলমাত্র ১০০ ডলার পর্যন্ত উপহার সামগ্রী শুল্কমুক্ত থাকবে। এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট এর আওতায়।ভারতের ডাক বিভাগ গত ২৩ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন মার্কিন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য প্রেরণ স্থগিত রাখতে হচ্ছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অনলাইন বিক্রেতা ও সাধারণ গ্রাহকরা সমস্যায় পড়বেন। কারণ ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ প্যাকেজ ডাকযোগে পাঠানো হয়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এছাড়া মার্কিন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র তাদের তালিকাভুক্ত ভারতীয় ডাক বিমান পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোই পণ্যবাহী উড়োজাহাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এভাবে যুক্তরাষ্ট্র মূলত কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে যাতে তাদের বাণিজ্যনীতি আরও কার্যকর হয়।বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ান তেল কেনা এবং বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, ডাক পরিষেবা স্থগিতকরণ তারই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র : সময় টিভি
