চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ওপর বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক কুচকাওয়াজ। প্রতিবছরের মতো এবারও এ কুচকাওয়াজকে চীন নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত করেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার প্রদর্শন করেন।কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হয়েছে লেজার অস্ত্র, পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোজাহাজ, রোবটিক নেকড়ে এবং সর্বাধুনিক সেনা সরঞ্জাম।
চীনা বিমানবাহিনী ৭০ মিনিটের আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া দেয়, যেখানে নির্দিষ্ট ফরমেশন অনুসরণ করে যুদ্ধবিমানগুলো প্রদর্শনী চালায়। একই সঙ্গে ব্যানার বহনকারী সামরিক হেলিকপ্টারও আকাশে ওড়াউড়ি করে।৫০ হাজারের বেশি দর্শকের উদ্দেশে শি জিনপিং বলেন, মানবজাতি আজ এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি—যুদ্ধ নাকি শান্তি, সংঘাত নাকি আলোচনা, সেই পথ বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। তার ভাষায়, “আমরা সবাই জয়ী হতে পারি, অথবা একে অপরকে দমিয়ে রাখার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি।
চীন সবসময় ইতিহাসের সঠিক পক্ষে রয়েছে।”অনুষ্ঠানে শি উপস্থিত হন মাও সে তুংয়ের আদলে পোশাক পরে, যা ছিল চীনা জাতীয়তাবাদের প্রতীকী বার্তা। মঞ্চে তার পাশে বসেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তারা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিং-মস্কো-পিয়ংইয়ং জোটের শক্ত বার্তা দেন।
এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ ২৫টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।বক্তৃতা শেষে শি ছাদখোলা লিমুজিনে চড়ে সেনাবাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন।এদিকে, এই শক্তি প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি কটাক্ষ করে লেখেন, “যখন আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন, তখন দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা জানিয়ে দেবেন।”
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
