Falcon Feed

সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পত্তি জব্দে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি দিচ্ছে দুদক

সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পত্তি জব্দে যুক্তরাষ্ট্রে চিঠি দিচ্ছে দুদক

চব্বিশে জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে নতুন গতি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের জন্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক। এই লক্ষ্যে দেশটিতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত জয়ের সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন। সেই আদেশের সূত্র ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে এমএলএআর পাঠানো হচ্ছে।

কী কী সম্পত্তি টার্গেট করা হয়েছে?

দুদকের তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। কমিশনের নথি অনুযায়ী, এর মধ্যে রয়েছে:

  • বিলাসবহুল বাড়ি: ভার্জিনিয়া রাজ্যে দুটি বাড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা।
    • গ্রেট ফলস, ভার্জিনিয়া: একটি বাড়ির অবস্থান ভার্জিনিয়ার গ্রেট ফলস এলাকায়, যার মূল্য ২০২৪ সালের ৩ জুন অনুযায়ী ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা)।
    • ফলস চার্চ, ভার্জিনিয়া: অন্য বাড়িটি ফলস চার্চ এলাকায় অবস্থিত। ২০১৪ সালের ৫ মে এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৮৭৫ ডলার (প্রায় ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা)।
  • বিলাসবহুল গাড়ি: যুক্তরাষ্ট্রে জয়ের নামে অন্তত আটটি বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য পেয়েছে দুদক, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯২৪ ডলার (প্রায় ৫ কোটি টাকা)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ২০১৫ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ এস-ক্লাস, ২০১৮ সালের ম্যাকলারেন ৭২০এস, ২০১৬ সালের ল্যান্ড রোভার এবং ২০১৫ সালের লেক্সাস জিএক্স ৪৬০, যা তাঁর সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের নামে নিবন্ধিত।
  • কোম্পানি ও ব্যাংক হিসাব: তদন্তে অন্তত ছয়টি কোম্পানি ও বারোটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান মিলেছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
    • গোল্ডেন বেঙ্গল প্রডাকশন্স এলএলসি
    • প্রাইম হোল্ডিং এলএলসি
    • ওয়াজেদ ইন অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনার্স এলএলসি
    • ব্লু হ্যাভেন ভেঞ্চারস এলএলসি
    • ট্রুপে টেকনোলজিস এলএলসি

শনাক্ত করা বারোটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সাতটি এসব কোম্পানির নামে এবং পাঁচটি জয়ের ব্যক্তিগত নামে রয়েছে। এর মধ্যে একটি তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাউন্ট।

মূল অভিযোগগুলো কী?

গত ১৪ আগস্ট সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে ৬০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে দুদক।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০০০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত সময়ে জয় ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে’ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। অর্জিত এই অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এছাড়া, দুদক তাঁর বিরুদ্ধে আয়কর রিটার্নে বিদেশি আয় গোপন করা, অননুমোদিত বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এনেছে।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তার চাহিদার ভিত্তিতে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আরও সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে জব্দ করা এসব সম্পদ আদালতে আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

Source: Jugantor

Related Articles