বাংলাদেশি তরুণদের একাংশ কেন এখনও বিদেশি জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছে—এই প্রশ্ন নতুন নয়, কিন্তু তার প্রেক্ষাপট আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। সম্প্রতি অন্তত দুই বাংলাদেশি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, আর দুইজন দেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন একই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে। ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়, যদিও তা আগের তুলনায় গোপন ও সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।টিটিপি মূলত পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে জন্ম নেওয়া একটি জঙ্গি সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন। ফলে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশি যুবকেরা কেন এই যুদ্ধে নিজেদের নিয়োজিত করছে? উত্তর লুকিয়ে আছে দীর্ঘস্থায়ী ট্রান্সন্যাশনাল বা আন্তঃসীমান্ত জিহাদবাদের প্রবাহে, যা ১৯৮০–এর দশকের আফগান যুদ্ধ থেকে শুরু হয়ে আজও চলমান। একসময় ঢাকায় ‘মুজাহিদ নিয়োগ’-এর ব্যানার দেখা যেত, আজ তা রূপ নিয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে—টেলিগ্রাম গ্রুপ বা এনক্রিপটেড চ্যাটরুমে।তরুণদের এই জঙ্গি পথে টানার মূল চালিকা শক্তি শুধু ধর্মীয় আদর্শ নয়; বরং পরিচয় সংকট, সামাজিক অবিচার, বেকারত্ব, ও জীবনের অর্থহীনতার অনুভূতিও বড় ভূমিকা রাখে। চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো তাদেরকে দেয় এক ধরনের ‘উদ্দেশ্যপূর্ণ জীবন’, সম্মান ও ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি—যা রাষ্ট্র বা সমাজ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গি দমন অভিযানে সফল হলেও, মতাদর্শিক দিক থেকে চরমপন্থার শিকড় এখনো অটুট। সরকারের পদক্ষেপ প্রায়ই গ্রেপ্তার ও বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে; কিন্তু তরুণদের মানসিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ তুলনামূলক দুর্বল।লেখক এই প্রেক্ষাপটে সতর্ক করেছেন—যদি কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক মর্যাদার সংকট দূর না করা যায়, তবে বাংলাদেশি তরুণদের বিদেশি ‘পবিত্র যুদ্ধ’-এর ফাঁদে পড়া বন্ধ হবে না। কারণ, জঙ্গিবাদ ধ্বংস হয় না; বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী রূপ বদলায়।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
