আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—রায়ে পলাতক থাকা এই দুই আসামিকে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে, এবং তাদের আশ্রয় দেওয়া যে কোনো দেশের পক্ষেই ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের শামিল। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও অনুচিত এবং অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ। বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে ভারতের প্রতি আহ্বান জানায়, দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারতের দায়িত্ব হলো দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তিকে অবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো। মন্ত্রণালয় বলছে, চুক্তির ধারায় এটি ভারতের “অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব” এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ সরকার বিগত কয়েক মাসে বিভিন্ন সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে অনুরোধ পাঠালেও কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টাও জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আর রাজসাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে লঘুদণ্ড হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত আরও নির্দেশ দেন, সংশ্লিষ্ট দুই প্রধান আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই শহীদদের পরিবারকে প্রদান করতে। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যর্পণ এখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের দাবি—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দ্রুত ফেরত পাঠানো জরুরি।
সূত্র : যমুনা টিভি
